দলীয় পরিচয় ও ক্ষমতার প্রভাবের আড়ালে বাংলাদেশের রাজনীতিতে জবাবদিহির প্রশ্নটি বহু বছর ধরেই চাপা পড়ে থেকেছে। ক্ষমতাসীন দলের নেতার বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠলে তার মুখোমুখি হওয়ার বদলে প্রায়ই বেছে নেওয়া হয়েছে এড়িয়ে যাওয়ার পথ। নিজের দলেরই একজন সংসদ সদস্য ও একজন প্রতিমন্ত্রীর বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সেই প্রচলিত সংস্কৃতির উল্টো দিকে দাঁড়িয়ে নতুন একটি বার্তা দিয়েছেন। তাঁর পদক্ষেপ স্পষ্ট করেছে, রাষ্ট্র পরিচালনার প্রধান বিবেচনা হওয়া দরকার আইন ও জনস্বার্থ; দলীয় আনুগত্য কিংবা কারও ব্যক্তিগত জনপ্রিয়তা নয়।
ত্রিশ দিনেরও কম ব্যবধানে দলের দুই গুরুত্বপূর্ণ নেতার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার ঘটনাটি বিএনপির অভ্যন্তরীণ শৃঙ্খলার গণ্ডিতে আটকে নেই; দেশের রাজনৈতিক সংস্কৃতির দিক থেকেও এর তাৎপর্য রয়েছে। ‘ব্যক্তির চেয়ে দল বড়, দলের চেয়ে দেশ’—শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের এই বহুল আলোচিত নীতির আলোকে সিদ্ধান্তটি বিবেচনা করা চলে। রাজনৈতিক অঙ্গীকার বাস্তবে রূপ নেয় তখনই, যখন একই নীতি নিজের দলের ভেতরেও প্রয়োগ করা হয়; তারেক রহমানের সাম্প্রতিক পদক্ষেপ সেই বার্তাটিকেই সামনে এনেছে।
ইশরাক হোসেন বিএনপির রাজনীতিতে পরিচিত ও সম্ভাবনাময় একটি নাম, এবং তরুণ রাজনৈতিক কর্মী হিসেবে তাঁর এই অবস্থান নিঃসন্দেহে উল্লেখযোগ্য। প্রয়াত বীর মুক্তিযোদ্ধা ও সাবেক মেয়র সাদেক হোসেন খোকার সন্তান হওয়ায় একটি রাজনৈতিক পরিচিতি তাঁর রয়েছে। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে দীর্ঘ স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনে তাঁর ভূমিকা ও রাজপথে সক্রিয় উপস্থিতি, যা দলের নেতা-কর্মীদের কাছে তাঁকে গুরুত্বপূর্ণ করে তুলেছে। তবু কাউকে আইনের ঊর্ধ্বে বসাতে পারে না রাজনৈতিক জনপ্রিয়তা কিংবা দলের প্রতি অবদান—প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সিদ্ধান্তে গুরুত্ব পেয়েছে এই নীতিই।
এর আগে অভিযোগ উঠেছিল সংসদ সদস্য ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টির বিরুদ্ধে; ঢাকার মিরপুরে রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টারে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনায় সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ ছিল সেটি। ঘটনাটির পর দলীয় প্রধানের নির্দেশে ১ অক্টোবর সংসদ সদস্য পদ থেকে পদত্যাগ করেন তিনি। এর ধারাবাহিকতায় সোমবার প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব থেকে ইশরাক হোসেনের অব্যাহতি রাজনৈতিক আলোচনায় নতুন মাত্রা যোগ করেছে।
মিষ্টির বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়ার পর অনেকের ভাবনা ছিল এমন যে, সরকারের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে থাকা কারও বিরুদ্ধে একই মাত্রার কঠোর সিদ্ধান্ত নেওয়া তুলনামূলক কঠিন হবে। ইশরাকের ঘটনা সেই ভাবনাটি নতুন করে বিবেচনার সুযোগ তৈরি করেছে। কারণ দলের একজন পরিচিত নেতা হওয়ার বাইরেও রাজনৈতিক উত্তরাধিকার, সাংগঠনিক গ্রহণযোগ্যতা এবং আন্দোলন-সংগ্রামের অভিজ্ঞতা তাঁর সঙ্গে যুক্ত। এমন একজনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিয়ে প্রধানমন্ত্রী যা বোঝাতে চেয়েছেন তা হলো, রাজনৈতিক অবস্থান যত শক্তিশালীই হোক, দায়িত্ব পালনে অনিয়ম কিংবা আইনবহির্ভূত আচরণের অভিযোগ উঠলে সেটিকে গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করতে হবে।
একজন প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব হারানোর ঘটনা হিসেবেই যদি একে দেখা হয়, তবে এর তাৎপর্য পুরোপুরি ধরা পড়বে না। মূল প্রশ্ন এখানে অন্য জায়গায়—জনপ্রতিনিধি ও রাষ্ট্রীয় দায়িত্বে থাকা ব্যক্তিরা কোন সীমার ভেতরে থেকে কাজ করবেন, আর কীভাবে তাঁদের ক্ষমতার ব্যবহার আইনের আওতায় থাকবে। এই সীমারেখা স্পষ্ট না থাকলে রাষ্ট্র পরিচালনায় শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা করা যায় না।
গুরুতর এক সামাজিক সমস্যা হিসেবে মাদক বাংলাদেশের সামনে দাঁড়িয়ে আছে; এর বিস্তার তরুণ প্রজন্মের জীবন, পরিবার ও সমাজের ভবিষ্যৎকে ঝুঁকিতে ফেলছে। সে কারণেই মাদক নিয়ন্ত্রণে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া রাষ্ট্রের একটি গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব, আর এই প্রেক্ষাপটে ইশরাক হোসেনের মাদকবিরোধী তৎপরতার উদ্দেশ্যকে ইতিবাচক হিসেবে দেখার সুযোগ থাকে। তবে উদ্দেশ্য ভালো হলেই একটি পদক্ষেপ আইনসম্মত হয়ে ওঠে না; অপরাধ দমনে পদ্ধতি, এখতিয়ার ও আইনের প্রতি শ্রদ্ধার গুরুত্বও সমান।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে এমন একটি ভিডিও, যেখানে রাজধানীর গেন্ডারিয়ায় মাদকবিরোধী অভিযানে আগ্নেয়াস্ত্র হাতে অংশ নিতে দেখা যায় ইশরাক হোসেনকে। গত শনিবার বিকেলে গেন্ডারিয়া রেলস্টেশনসংলগ্ন দয়াগঞ্জ গুমটিঘর রেলগেট এলাকায় ঘটে ঘটনাটি। সদ্য দায়িত্ব হারানো এই প্রতিমন্ত্রীকে ভিডিওতে আগ্নেয়াস্ত্র উঁচিয়ে সঙ্গে থাকা ব্যক্তিদের কয়েকজনকে ধরার নির্দেশ দিতে দেখা যায়। কাউকে গুলি করার হুমকি দেওয়ার শব্দও এ সময় শোনা যায়, আর এক তরুণকে লাথি মারতে দেখা যায় তাঁর সঙ্গে থাকা এক দেহরক্ষীকে।
আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করা মাদকবিরোধী অভিযান পরিচালনার ক্ষেত্রে অপরিহার্য। সরকারের নির্বাহী বিভাগের অংশ হিসেবে মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীদের অবস্থান নির্ধারিত হয়েছে বাংলাদেশের সংবিধানে, আর তাঁদের দায়িত্ব ও ক্ষমতা ঠিক করে দেয় সংবিধান, সরকারের কার্যবিধি এবং সংশ্লিষ্ট আইন ও বিধিবিধান। নির্বাহী ক্ষমতা প্রয়োগ এবং সরকারি কার্যক্রম পরিচালনার কাঠামো নির্ধারিত হয়েছে সংবিধানের ৫৫ অনুচ্ছেদে। তবে মন্ত্রী বা প্রতিমন্ত্রীর পদ কাউকে স্বয়ংক্রিয়ভাবে পুলিশের মতো তল্লাশি, আটক কিংবা গ্রেপ্তারের ক্ষমতা এনে দেয় না; এমন ক্ষমতা প্রয়োগের জন্য দরকার নির্দিষ্ট আইনগত ভিত্তি।
নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে মাদকদ্রব্য জব্দ এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে আটক বা গ্রেপ্তারের বিধান রয়েছে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮-এর ২১ ধারায়। সংশ্লিষ্ট ক্ষমতাপ্রাপ্ত কর্মকর্তা এবং আইন দ্বারা নির্ধারিত অন্যান্য কর্মকর্তাকে নির্দিষ্ট শর্তে পরোয়ানা ছাড়াই তল্লাশি ও গ্রেপ্তারের ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে একই আইনের ২৩ ধারায়। মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী কিংবা সংসদ সদস্য হিসেবে আলাদাভাবে মাদকবিরোধী অভিযান চালানোর বিশেষ কোনো ক্ষমতা এসব বিধানে নেই। অর্থাৎ আইন প্রয়োগকারী সংস্থার ক্ষমতা রাজনৈতিক পদমর্যাদা থেকে আপনাআপনি তৈরি হয় না।
আগ্নেয়াস্ত্রের বেলায়ও নীতিটি একই। বৈধ অস্ত্রের লাইসেন্স থাকা এক কথা, আর যেকোনো পরিস্থিতিতে সেই অস্ত্র প্রদর্শন বা ব্যবহারের অধিকার থাকা আরেক কথা। অস্ত্র বহন ও ব্যবহারের শর্ত উল্লেখ রয়েছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ২০২৫ সালের ১৩ জুলাই প্রকাশিত ‘আগ্নেয়াস্ত্রের লাইসেন্স প্রদান, নবায়ন ও ব্যবহার নীতিমালা, ২০২৫’-এর ২৫ অনুচ্ছেদে। এর ২৫(ক) উপঅনুচ্ছেদ বলছে, আত্মরক্ষার জন্য লাইসেন্সধারী ব্যক্তি নিজের অস্ত্র বহন ও ব্যবহার করতে পারবেন; তবে অন্যের মধ্যে ভীতি বা বিরক্তি সৃষ্টি করতে পারে, এমনভাবে অস্ত্র প্রদর্শন করা যাবে না।
পরিষ্কার এই বিধানের তাৎপর্য। প্রয়োজনে আত্মরক্ষার জন্য বৈধ অস্ত্র সঙ্গে রাখা এক ধরনের অধিকার; সেই অস্ত্র দেখিয়ে অন্যকে ভয় দেখানো কিংবা কাউকে আটকের উদ্যোগ নেওয়া পুরোপুরি ভিন্ন বিষয়। পুলিশি অভিযান পরিচালনার আইনগত এখতিয়ার অস্ত্রের লাইসেন্স থেকে জন্ম নেয় না। তাই মাদকবিরোধী তৎপরতার লক্ষ্য সমর্থনযোগ্য হলেও তা বাস্তবায়নের পদ্ধতি অবশ্যই আইনসম্মত হতে হবে।
বিশেষভাবে এই পার্থক্যটিই সামনে এসেছে ইশরাক হোসেনের ঘটনায়। হতে পারে তরুণ বয়সের উদ্দীপনা কিংবা অপরাধ দমনে দৃঢ় অবস্থান থেকেই তিনি পদক্ষেপটি নিয়েছেন। কিন্তু রাষ্ট্র পরিচালনায় আবেগের পাশাপাশি আইন, দায়িত্ববোধ ও প্রাতিষ্ঠানিক শৃঙ্খলার গুরুত্বও সমান। অপরাধ দমনের দায়িত্ব বর্তায় সংশ্লিষ্ট আইন প্রয়োগকারী সংস্থার ওপর। প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া, প্রশাসনকে সহযোগিতা করা এবং আইনসম্মত পদক্ষেপের পক্ষে জনমত গড়ে তোলা জনপ্রতিনিধিদের পক্ষে সম্ভব। কিন্তু আইন প্রয়োগকারী সংস্থার বিকল্প হয়ে ওঠা তাঁদের পক্ষে সম্ভব নয়।
স্বাভাবিকভাবেই এ ঘটনা ঘিরে রাজনৈতিক বিতর্ক তৈরি হবে। রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের সুযোগ নেওয়ার ঘটনা হিসেবে কেউ বিষয়টিকে দেখতে পারেন; আবার মাদকবিরোধী উদ্যোগের গুরুত্ব সামনে আনতে পারেন কেউ। কিন্তু রাষ্ট্র পরিচালনার মূল বিবেচনা হওয়া উচিত দুটি বিষয়—পদক্ষেপটি আইনসম্মত ছিল কি না, এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা এড়াতে কী ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন। আইনগত প্রশ্নকে ব্যক্তির রাজনৈতিক পরিচয় দিয়ে আড়াল করা হলে দীর্ঘ মেয়াদে তা কারও জন্যই মঙ্গলজনক হবে না।
দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশের রাজনীতিতে একটি প্রবণতা চোখে পড়েছে—নিজ দলের নেতার বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠলে স্বীকার করার বদলে আত্মপক্ষ সমর্থন কিংবা অস্বীকারের পথ ধরা। দলীয় ভাবমূর্তি রক্ষার যুক্তি তুলে অনিয়মের অভিযোগকে গুরুত্বহীন করে দেখানোর ঘটনাও ঘটেছে বহুবার। অথচ রাজনৈতিক নেতাদের বক্তব্যের সঙ্গে সঙ্গে তাঁদের কর্মকাণ্ডও পর্যবেক্ষণ করেন সাধারণ মানুষ। অভিযোগের যথাযথ তদন্ত এবং অনিয়মের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না হলে জনগণের মধ্যে ধারণা জন্মায়, ক্ষমতাবানদের জন্য নিয়ম আলাদা।
একটি দলের ক্ষতিতেই এই ধারণার প্রভাব সীমিত থাকে না; গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান, আইনের শাসন এবং রাজনীতির প্রতি মানুষের আস্থা—সব কিছুই এতে দুর্বল হয়। দুর্নীতি, সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি কিংবা ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগে দলীয় পরিচয় ঢাল হিসেবে ব্যবহৃত হলে রাজনৈতিক জবাবদিহি অর্থ হারায়। ক্ষমতাসীন দলের দিক থেকেও পরিণতি নেতিবাচক; কারণ কোনো নেতাকে সাময়িকভাবে রক্ষা করা গেলেও জনসমর্থন ও বিশ্বাসযোগ্যতা দীর্ঘ মেয়াদে ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
নিজের দলের নেতার বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠলে নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের গুরুত্ব তাই অনেক বেশি। শাস্তিমূলক ব্যবস্থার পাশাপাশি জরুরি অভিযোগের সত্যতা যাচাই, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বক্তব্য শোনার সুযোগ এবং যথাযথ প্রক্রিয়া অনুসরণ করাও। শুধু শাস্তি দেওয়া আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার অর্থ নয়; সবার জন্য একই আইন, ন্যায়সংগত প্রক্রিয়া ও সিদ্ধান্তের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করাই এর মর্ম।
বৃহত্তর এই রাজনৈতিক বাস্তবতার আলোকেই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে তারেক রহমানের সাম্প্রতিক সিদ্ধান্তগুলো। দলীয় শৃঙ্খলা ও জবাবদিহির এই অবস্থান যেন বিচ্ছিন্ন পদক্ষেপে সীমাবদ্ধ না থেকে নিয়মিত চর্চায় রূপ নেয়—এটিই এখন তাঁর সামনে চ্যালেঞ্জ। দলের ছোট-বড় সব পর্যায়ের নেতা-কর্মী এবং রাষ্ট্রীয় দায়িত্বে থাকা ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে একই মানদণ্ড কার্যকর হলে তবেই পরিবর্তনের দাবি বাস্তব ভিত্তি পাবে।
জনপ্রিয়তা কিংবা সাংগঠনিক প্রভাবেই রাজনৈতিক নেতৃত্বের প্রকৃত শক্তি সীমাবদ্ধ থাকে না। নিজের দলের অনিয়মের বিরুদ্ধেও দাঁড়ানোর সক্ষমতা নেতৃত্বের বিশ্বাসযোগ্যতার একটি গুরুত্বপূর্ণ মাপকাঠি, আর সেই অবস্থানকে একই সঙ্গে হতে হবে ন্যায়সংগত, স্বচ্ছ ও আইনসম্মত। ব্যক্তির প্রতি আনুগত্যের চেয়ে রাষ্ট্রের আইন ও জনগণের স্বার্থকে অগ্রাধিকার দেওয়ার সংস্কৃতি গড়ে উঠলে রাজনীতির প্রতি মানুষের আস্থা বাড়তে পারে।
এমন একটি রাজনৈতিক সংস্কৃতির প্রয়োজন বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রায় দীর্ঘদিনের, আর সেই পরিবর্তনের সম্ভাবনা সামনে এনেছে তারেক রহমানের নেওয়া পদক্ষেপগুলো। তবে একটি বা দুটি সিদ্ধান্ত দেখেই রাজনৈতিক সংস্কৃতির স্থায়ী পরিবর্তন নিশ্চিত হয়েছে বলে সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর সময় এখনো আসেনি। প্রকৃত মূল্যায়ন হবে ভবিষ্যতে—দলীয় পরিচয় নির্বিশেষে আইন লঙ্ঘনের অভিযোগে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে কি না এবং ক্ষমতার ব্যবহার নিয়মতান্ত্রিক থাকছে কি না, তা যখন দেখা যাবে।
তারেক রহমানের সামনে তাই সুযোগ ও দায়িত্ব—দুটিই রয়েছে। নিজের দলের ভেতরে জবাবদিহি নিশ্চিত করার সঙ্গে সঙ্গে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর স্বাধীনতা, আইনের সমান প্রয়োগ ও ন্যায়বিচারের ধারাবাহিকতা তিনি বজায় রাখতে পারলে তাঁর ঘোষিত নতুন ধারার রাজনীতি বাস্তব পরিবর্তনের ভিত্তি হয়ে উঠতে পারে। দেশের রাজনীতিকে এগিয়ে নেওয়ার সবচেয়ে কার্যকর পথ শেষ পর্যন্ত হবে এমন ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করা, যেখানে আইনের ঊর্ধ্বে কেউ নন এবং দলীয় স্বার্থের চেয়ে দেশ ও জনগণের স্বার্থই সর্বোচ্চ গুরুত্ব পায়।